মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
ছবির ভেতর লুকানো ‘মিথ্যা’, দেড় শতাব্দী আগেই শুরু হয়েছিল ফটো জালিয়াতি
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ডিজিটাল যুগে এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তি নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন নতুন করে সামনে আসছে এক বিস্ময়কর সত্য। ছবি বিকৃত বা ‘ফেক’ করার ইতিহাস মোটেও নতুন নয়। আজ থেকে প্রায় দেড় শতাব্দী আগেই ফটোগ্রাফাররা নানা কৌশলে তৈরি করতেন বিভ্রমময় ছবি, যা দর্শকদের চোখ ধাঁধিয়ে দিত।
সম্প্রতি রাইক্সমিউজিয়ামে আয়োজিত “ফেক! আর্লি ফটো কলেজেসে অ্যান্ড ফটোমন্ট্যাজেস” প্রদর্শনীতে ১৮৬০ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যকার এমনই ১০টি চমকপ্রদ ছবি তুলে ধরা হয়েছে। প্রদর্শনীর কিউরেটর হ্যান্স রোসবুম জানান, ছবির বিকৃতি বা ম্যানিপুলেশন ফটোগ্রাফির জন্মলগ্ন থেকেই রয়েছে। এটি এর ইতিহাসেরই অংশ।
এআই বিতর্কের প্রেক্ষাপট
বর্তমানে ছবি বিকৃতির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট গ্রোক-কে ঘিরে। এই টুল ব্যবহার করে মানুষের ছবি পরিবর্তন করে আপত্তিকরভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ ওঠে। সমালোচনার মুখে ফিচারটি বন্ধ করা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ইউরোপিয়ান কমিশন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি নতুন হলেও কৌশল পুরোনো।

১. ''ডে ড্রিম'' (১৮৭০–১৮৯০) একটি ছবিতে একইসঙ্গে বাস্তবতা ও কল্পনা—এক নারী ও তার সঙ্গীর পাশে ভবিষ্যতের মাতৃত্বের স্বপ্ন। ডার্করুমে আলোর আংশিক ব্যবহার করে তৈরি এই দ্বৈত দৃশ্য।

২. ''ম্যান স্টার্টেল্ড হিজ ওন রিফ্লেকশন'' (১৮৭০–১৮৮০) লিওনার্ড ডি কনিঘ-এর কাজ। একই প্লেটে দুইবার এক্সপোজ করে নিজের ‘ভূত’-এর মুখোমুখি হওয়ার বিভ্রম তৈরি।

৩. ডিক্যাপিটেশন (১৮৮০–১৯০০) মানুষের মাথা আলাদা করে দেখানোর অভিনব কৌশল। পর্দার আড়ালে মূল মাথা লুকিয়ে রেখে তৈরি করা হয় এই বিভ্রম।

৪. ''হুইলব্যারো উইথ আ হেড'' (১৯০০–১৯১০) দুটি নেগেটিভ জুড়ে তৈরি এক অবাস্তব দৃশ্য—হুইলবারোতে রাখা মানুষের মাথা। স্কেলের খেলায় তৈরি এই চিত্র পরবর্তী সুররিয়ালিজমের পূর্বাভাস।

৫. ট্যাকিং আওয়ার গিস টু মার্কেট (১৯০৯) মার্টিন পোস্ট কার্ড কম্পানির তৈরি এই ছবিতে বিশালাকৃতির হাঁস দেখিয়ে অঞ্চলভিত্তিক কৃষি সমৃদ্ধির প্রচার করা হয়েছে।











